ধৃতিরূপা দাস

ধৃতিরূপা দাসের কবিতাগুচ্ছ

লেখা বাছাই

ধর্ গোটা শহরটার সরকারি নল খোলা। জল পড়ে এর বাড়ি ওর বাড়ি রাস্তা পার হচ্ছে আর একজলেই হাফ কাটা ফুল কাটা তর্জনী-মধ্যমার দুইটি পা ধুচ্ছে কেউ। ধর্ অসীমতমের পর ফের প্রথম বই-সাজের এই আয়ু!

ফের বমির কফ ঘেঁটে ন্যাংটোকে শুশ্রূষার পর লালা ফেলবে হাঁ। বিস্মিত হওয়া ঠিক নয় তখন। যুক্তিহীন- তর্কহীন মন দিয়ে শোল মাছের রক্ত খুব ডলতে হয় শেখাচ্ছেন শস্যকে তক্খুনি গ্রস্ত-মা।

 

ততদিনে

ততদিনে পায়ের পাতা মিশতে মিশতে কার মতো নয়?
শনি ছোঁয়া প্রসাদ ঘরে নেওয়া বারণ, হেই দেবতা
ছেড়ে যেতে দেওয়া কি ঠিক এখন তোকে?

এতোখানি রাষ্ট্র মাফিক বৃত্তে ঘুরে অরণ্য-চুপ কমলালেবু,
এতোখানি রঙের পাতা ও ফল পকেট পূর্ণ করা! তবে দেব কোথায়? বলুক ধুলোয় ধুলো সমস্তটাই?

পিতা দেহ নদীর কাছে এ জিজ্ঞাসার তর্পণে যাই।
যাতায়াতে ঘুরতে থাকা এই যে গ্রহ মাংসপ্রবণ
তত বেলা তুরীয় ভ্রমণ গুটিয়ে লেজে ফিরছে গুহায়।

না ফুরোনো পাথর আলো…

ঠেলে ঠেলে নিচ্ছে ডিঙি লিঙ্গহীনা–
অনন্ত সব সম্ভাবনা– যারা শুধু চোখ না ফোটা দলায় দলায় সম্ভাবনাই।

অযথা এ দীর্ঘায়ুকে স্তব্ধ করা হলদে, ও রং!
মিশে মিশে না মিশটুকু রাঙিয়ে মিশুক তোর আলোড়ন।

 

বিপাক

মঞ্চেরও তো মূল রয়েছে
হস্ত -লিঙ্গ -শূদ্র, শেষে
পাপোশে জিভ লম্বা নামাই—
কোথায় মায়া সকল যে মূল?

প্রশ্নে প্রশ্নে লোভ খসে যায়।
রাঙা হাসি তখন কালোয়
দুলতে থাকে দেশ ভাসিয়ে।
সম্বন্ধ কী সহজ চেনা!
লোভ খসা ট্রেন যাত্রা দেহে?
পচতে কিছু সময় তো চাই !

বৈচিত্র্যময় পাপড়ি ব্যাকুল
খুলতে খুলতে একের কাঁকন
ঘষটে দিলে অপর যোনি
ব্যথা বৃত্তে পরশমণি!
জানায় কখন অতর্কিতে
ঘটে গেছেন একেশ্বরী।

 

প্রশ্নাতীত বঁটির দিকে

মধ্যশ্রেণি রক্তে যে জল?
ফুসলে ঠেলে খাদ কিনারায়
ঢ্যামনা জোটেন রোজ ও দিব্যি
ঝাঁপ দেয়া বা ঝাঁপ না দেয়ার
একটা সিঁথি পথ চিনিয়ে ফেরেন ডেরায়।

এমনি ধরা। এমনি ছাড়া।
পাপড়ি শিথিল মুগ্ধতাহীন বৃদ্ধ যোনি।
চাকরি পাওয়াই এখন তুমুল হবিষ্যান্ন ঘটতে পারে।
স্বপ্নে যে কেউ হামির বাহার আনতে পারে
তরলতম হিন্দি গানেই!

এর বেশি হাড় ভাঙতে পারার দাঁত ছিল না খাদ্যতন্ত্রে।
এর বেশি বিষ কণ্ঠে নিলে ধরবেনা পোক!

একটি মোরগ
অগুনতি ছাল-পালক-ঝুঁটি- ঠোঁট ও পায়ুর স্তূপ মাড়িয়ে
ইচ্ছা-অনিচ্ছা-প্রশ্নাতীত
বঁটির দিকে

 

হল্ট স্টেশনের সন্ধে

সেদিন, লাল আলো ফিরে যেতে বড়ো দেরি করছিল। তাই কেউ আচমকা হাততালি দিয়ে কালো ডানা উড়িয়ে উড়িয়ে একাকার… খিলখিলে সন্ধেকে সেইদিন থেকে ঘরে আলো জ্বেলে আনবার রেওয়াজ।
গলা সাধো গলা সাধো পতাকার প্রিয়তম ছোট নাতি।
এ ক্রমিক সন্ধিতে ফুটফুটে একাকাশ মৃত্যুর থুতনিটা বারবার নীচু করে দেখবার পরেই তো পেঁয়াজের বড়া কিনে পয়সা ফুরিয়ে ভার কমাবার বল পাবে ফুসফুস।

 

অনন্ত কচার কষ

অতদূর কচা বেড়া ছিল মৃত্যুর
তার থেকে ঠেলে কিনারায় নিয়ে গেলে
জিরাফের ঠ্যাঙে শিশু-দৌড় হঠাৎ
খেলে দিল সমস্ত ছড়িয়ে ছড়িয়ে।

মজা বড়ো মজা পেয়ে তরুলতা খোঁজা
আলি আকবরী সুর যেন বা স্বয়ং;
স্বয়ং কোমর টেনে বুকে ঘষা বুক
ছায়া জেলিটির লালা কবিতা-সহজা।

এতটা ধুলোর থেকে গুটি চেলে গুনি
দশবার পাঁচ মুছিয়ে নেয়া রবারে।
ডোমের পাঁজরা জুড়ে আতার মাখন-
কৌশল আঁকা ছিল কেউই বুঝিনি!

গণতন্ত্রের গায়ে লাগেনা তো শোক।
মড়ার পাশেই ঘুমে নারায়ণ শিলা।
ঘুমোক সে,নির্মোহ জাড্যে ঘুমোক
অশেষ কচার কষে বুদ্বুদ ফুঁয়ে।

 

দিনলিপি

বনগাঁ লোকালে ভরা কামরা লোকের মাঝে শুধু
আমাকে লক্ষ্য করে হেসেছিল এক মেয়েশিশু। বারবার। অলৌকিক আপ্যায়নে…
তারপর থেকে মরতে পারি না। তারপর থেকে বেছে বেছে ময়লা-গোড়ালি পা আর লাথিগুলোয় ধ্যানস্থ হওয়াই দিনলিপি।

লেজ বাঁকা টিকটিকি, সরস্বতীকে উচ্চারণের পর তাঁকে কী করে যে ভোগ করি!
খসে যায় হাত লেগে সকল সকল তবু মরি না!

 

স্বকীয় মোক্ষের দিকে

‘আল্লাহ্ মহান’ অবধি মই খাড়া করে
তুমি কি ঘুমোতে গেলে অবেলায়?
নাকি দায়বদ্ধ জলে বোতল ভরতে
ওই — দাঁড়িয়েছ লাইনে!
মোদ্দা সে বেচারা মই একা নামতে পারছে না গো!
তাকে কি নামিয়ে নেবো? নেবো না?
কিংবা নেয়া-না নেয়ার অতীত ঐশ্বর্য-লোভে
সাইকেল ছেড়ে দেবো
বসন্তের লৌকিক গলি-ঘূর্ণিতে!

মানুষের কুঁজো হয়ে ঢুকে পড়া বাসনে বা অতিকাপড়ের নীচে মেলানিন হারানো স্তব্ধতা,
এ দুপুরে মই থেকে দূরে
কোন স্বকীয় মোক্ষের দিকে নিয়ে যাবে যে!

Facebook Comments

Related posts

Leave a Comment